এক যুগে দেশে চালু হয়েছে আগে উন্নয়ন, পরে গণতন্ত্র

এক যুগে দেশে চালু হয়েছে আগে উন্নয়ন, পরে গণতন্ত্র

গণতন্ত্রকে মূলমন্ত্র ধরে একটি স্বাধীন দেশের জন্ম হয়েছে। সেই দেশে গত এক যুগে চালু হয়েছে- আগে উন্নয়ন পরে গণতন্ত্র, সীমিত গণতন্ত্র বলে দাবি করেছেন বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) রুমিন ফারহানা।


বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশনে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। 




রুমিন ফারহানা বলেন, বেশি উন্নয়ন, কম গণতন্ত্র। উন্নয়নের গণতন্ত্র নামক উদ্ভুত সব স্লোগান। ঠিক যেমন আইয়ুবের বুনিয়াদী গণতন্ত্র। সামরিক স্বৈরশাসক তার ক্ষমতায় থাকার বয়ান হিসেবে উন্নয়নকে বেছে নিয়েছিল। বর্তমান সরকারও একদমই তাই।


তিনি বলেন, যেকোন প্রসঙ্গে সত্তরের নির্বাচনের কথা উঠে আসে। আজকেও ভাবতে অবাক লাগে ইয়াহিয়ার মতো একজন সামরিক শাসকের অধীনেও একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছিল। যেখানে বঞ্চিত, শোষিত পূর্ব পাকিস্তানের কোন দল ১৬৭টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। সুষ্ঠু নির্বাচন, ভোটাধিকার প্রয়োগ, নিজের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন বিনা প্রতিবাদে সেই জয়রায়কে মেনে নেওয়া এতটাই গুরুত্বপূর্ণ, যেটা না হলে একটা দেশ ভেঙে নতুন আরেকটা দেশের জন্ম হতে পারে।


এ সংসদ সদস্য বলেন, বর্তমানে দেশে এখন অর্থনৈতিক বৈষম্য অকল্পনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্য হিসেব করলে আজকের স্লোগান হবে সোনার বাংলা নরক কেন।


তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পড়লে পরিষ্কার হয় যে, সত্তরের নির্বাচন মেনে ক্ষমতা হস্তান্তর করলে তখন স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হতো না। নির্বাচনে বিজয়ের পরেও ক্ষমতা হস্তান্তরকে বিশ্বাসঘাতকতা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।



মার্কিন একটি সংস্থার প্রতিবেদন তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, আমি দেখি উন্নয়নের বিষে লাল বাংলাদেশ। মার্কিন সংস্থা মিলোনিয়ান চ্যালেঞ্জ করপোরেশন দরিদ্র ও সুশাসন নিশ্চিত করতে চেষ্টা করতে চাওয়া দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। তারা বিভিন্ন অংকে অনুদান দিয়ে থাকে। বাংলাদেশ এ ফান্ড পাওয়ার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাদের ১৬টি ক্ষেত্রে রেড জোনে আছে বাংলাদেশ। আগের বছরগুলোতে ছিল আরও কম। এখন পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপ হচ্ছে।


তিনি বলেন, ‘সোনার বাংলা শ্মশান কেন’ এটা ছিলো আওয়ামী লীগের ১৯৭০ সালের নির্বাচনী পোস্টারের স্লোগান। সেখানে দুই পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বৈষম্যের কথা তুলে ধরা হয়েছিল। সেই নির্বাচনে বিজয়ীর পরে ক্ষমতা আওয়ামী লীগের হাতে হস্তান্তর না করায় আমরা পেলাম স্বাধীন বাংলাদেশ। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে সব নাগরিকদের জন্য আইনের শাসনের অঙ্গীকার করা হয়েছিল। আজ দেশে সরকারি দলের কিছু নেতাকর্মী, কিছু ব্যবসায়ী, কিছু দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ মানুষের সঙ্গে বাকি ৯০ শতাংশ মানুষের অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ছে।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন :