টাঙ্গাইলশুক্রবার , ২২শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. গণমাধ্যম
  6. জবস
  7. জাতীয়
  8. টপ নিউজ
  9. টাঙ্গাইলে করোনা মহামারি
  10. তথ্যপ্রযুক্তি

ইউনাইটেড এয়ারের ৩৫৫ কোটি টাকা দেনা মওকুফে মন্ত্রণালয়ে চিঠি

অনলাইন ডেস্ক
আপডেট : অক্টোবর ৫, ২০২১
Link Copied!

ছয় বছর ধরে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ লক্ষ্যে কোম্পানির পুরোনো উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বাদ দিয়ে নতুন আট জন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে সাবেক পরিচালনা পর্ষদের সীমাহীন দুর্নীতি এবং তহবিল তসরূপের কারণে প্রচুর দেনা ও লোকসানি কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে ইউনাইটেড এয়ার। এতে তহবিল সংকটে পড়েছে নতুন পরিচালনা পর্ষদ। এমনকি নতুন করে কোম্পানিটিকে চালু করার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ের খরচও বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ পরিস্থিতিতে ইউনাইটেড এয়ারের কাছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) মোট ৩৫৫ কোটি ৩৩ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫১ টাকা পাওনা মওকুফের জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীকে অনুরোধ জানিয়েছে বিএসইসি। একইসঙ্গে কোম্পানিটির এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেট (এওসি) নবায়ন করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে কমিশন।

ইউনাইটেড এয়ারের শেয়ারে বিনিয়োগকৃত ১ লাখ ৬০ হাজার বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে বিএসইসি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, ইউনাইটেড এয়ারের নতুন পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে বেবিচকের চলতি বছরের গত ১১ আগস্ট একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বেবিচক জানায়, পাওনা বকেয়া টাকার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত প্রাপ্তির পর ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেট (এওসি) জন্য আবেদন করতে পারবে।

বেবিচকের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বকেয়া মোট পাওনা ৩৫৫ কোটি ৩৩ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫১ টাকা ৯৯ পয়সা। এর মধ্যে মূল পাওনা ৫৬ কোটি ৮৭ লাখ ৭৪ হাজার ৮৮৩ টাকা ১৩ পয়সা। বাদবাকি টাকার মধ্যে রয়েছে ভ্যাট ৫ কোটি ৬৫ লাখ ৭২ হাজার ৮৪৫ টাকা, আয়কর ২ লাখ ১২ হাজার ২০ টাকা ৬৯ পয়সা এবং সারচার্জ (বাৎসরিক ৭২ শতাংশ হারে) ২৯২ কোটি ৮১ লাখ ৩০ হাজার ৩ টাকা ১৭ পয়সা।

২০১৫ সালে কোম্পানিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে বাৎসরিক ৭২ শতাংশ হারে সারচার্জের কারণে এই বকেয়া ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। অন্যদিকে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালক ও আগের কর্তৃপক্ষের সীমাহীন দুর্নীতি এবং তহবিল তসরূপের কারণে এয়ারলাইনটি বর্তমানে দেউলিয়াত্বের দ্বারপ্রান্তে উপনীত বলে মনে বিএসইসি।

এমতাবস্থায় বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে ইউনাইটেড এয়ারের কাছে বেবিচকের সমুদয় পওনা মওকুফ করে এয়ারলাইনটির মেয়াদোত্তীর্ন এওসি নবায়নের জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীকে অনুরোধ জানিয়েছেন বিএসইসি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। এখনও তাদের কাছ থেকে কোনো জবাব আসেনি।’

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনাইটেড এয়ারের পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের একজন স্বতন্ত্র পরিচালকবলেন, ‘আমরা ইউনাইটেড এয়ারের যাবতীয় দায়দেনা মওকুফের বিষয়ে বেবিচকের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তবে বেবিচক জানিয়েছে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া তারা এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেট দিতে পারবে না।’

তথ্য মতে, ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়া ও বিভিন্ন সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের কারণে ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মূল মার্কেট থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরিত হয়েছে। একইসঙ্গে গত ছয় বছরের বেশি সময় ধরে কোম্পানিটির সব ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করা কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। এ ব্যর্থতার জন্য কোম্পানিটির সাবেক স্বতন্ত্র পরিচালকসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা দায়ী বলে মনে কমিশন। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি ইউনাইটেড এয়ারকে ওটিসি মার্কেটে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি।

এদিকে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে চলিতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি এয়ারওয়েজের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে বিএসইসি। ইউনাইটেড এয়ারওয়েজে মনোনীত স্বতন্ত্র পরিচালকরা হলেন, কাজী ওয়াহিদ উল আলম, এম সাদিকুল ইসলাম, মাসকুদুর রহমান সরকার, এটিএম নজরুল ইসলাম, প্রফেসর ড. বদরুজ্জামান ভূইয়া, মুহাম্মদ ইউনুস, মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ ও সৈয়দ এরশাদ আহমেদ। কোম্পানিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন কাজী ওয়াহিদ উল আলম। আর এ ডুবন্ত ইউনাইটেড এয়ারকে সচল করার উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্তে বিনিয়োগ ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে, সম্প্রতি বিএসইসি ওটিসি মার্কেট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে ওটিসি মার্কেটের আওতাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে আর্থিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যত সম্ভাবনার ভিত্তিতে এসএমই প্ল্যাটফর্ম ও অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে (এটিবি) স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। এরই ধারাবাহিকতায় বিএসইসি’র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউনাইটেড এয়ারকে ওটিসি থেকে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে স্থানান্তর করা হবে। শিগগিরই অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড চালু করা হবে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।