টাঙ্গাইলমঙ্গলবার , ২৬শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. গণমাধ্যম
  6. জবস
  7. জাতীয়
  8. টপ নিউজ
  9. টাঙ্গাইলে করোনা মহামারি
  10. তথ্যপ্রযুক্তি

ঐতিহ্যে ঘেরা বুড়িরহাট জামে মসজিদ

অনলাইন ডেস্ক
আপডেট : সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১
Link Copied!

বুড়িরহাট ঐতিহাসিক জামে মসজিদ। শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বাজারে ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদের অবস্থান। ১৯০৭ সালে নির্মাণ করা হয় বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদের ইতিহাস থেকে জানা যায়।

দৃষ্টিনন্দন এই স্থাপনাটির পেছনে আছে কিছু নিবেদিত ধর্মপ্রাণ মানুষের অবদান। তাদের কেউ বেঁচে না থাকলেও নির্মিত চমৎকার স্থাপনাটি টিকে আছে এখনো। ইংল্যান্ডের সিমেন্ট ও কলকাতা থেকে আনা বিভিন্ন পাথর দিয়ে কারুকাজ করা মসজিদটি দেখতে পর্যটকরাও আসেন।

যখন বঙ্গভঙ্গ হয়, তখন ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটি গোলপাতা দিয়ে তৈরি করা হয়। ১৯০৭ সালে তৎকালীন ধনাঢ্য ও ধর্মনুরাগী একাব্বর হোসেন হাওলাদার এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ঊনিশ শতকের শুরুর দিকে বুড়িরহাট গ্রামে ছন ও গোলপাতা দিয়ে ছোট্ট একটি মসজিদ বানানো হয়। এর কয়েক বছর পর একাব্বর হোসেন হাওলাদারের ছেলে মরহুম মমতাজ উদ্দিন হাওলাদার টিনের ঘর দিয়ে মসজিদ বানান।

কলকাতার টিপু সুলতান মসজিদের আদলে এর নকশা করা হয়। ৫ একর জমির ওপর নির্মিত মসজিদের দৈর্ঘ্য ২৫০ ফুট ও প্রস্থ ১২০ ফুট। দেয়াল ৩ ফুটেরও বেশি পুরু। ভেতরের দেয়ালে সিরামিক খণ্ড দিয়ে লতাপাতা আঁকা অসংখ্য রঙিন নকশা রয়েছে। বাইরের দিকে আছে সিমেন্ট ও সিরামিকের টেরাকোটা নকশা।

মূল মসজিদ প্রায় ৫ কাঠা জমির ওপর অবস্থিত। সংস্কারের আগে এটি ছিল আয়তকার। তখন এর দৈর্ঘ্য ছিল ৫০ ফুট এবং প্রস্থ ছিল ৩০ ফুট। কিন্তু সংস্কারের পর মসজিদের আকার রীতিমতো পরিবর্তিত হয়ে যায়।বর্তমানে এটি একটি বর্গাকৃতির এবং সাধারণ ৩০ গম্বুজবিশিষ্ট আয়তকার মোঘল মসজিদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সংস্কারের পর মসজিদের চাকচিক্য ও সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে।

গ্রামের মানুষের নামাজ আদায়ে জায়গা হচ্ছিল না। তাই উত্তর-পূর্ব পাশে বাড়ানো হচ্ছে। এখন চলছে ৩০টি গম্বুজের কাজ। মূল প্রবেশপথ দুটি। এখন একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন এক হাজার মুসল্লি। ওয়াকফকৃত সম্পত্তিতেই মসজিদ স্থাপিত। পাশে ঈদগাহ। পশ্চিমে মার্কেট। পূর্বপাশে ইমামের থাকার ব্যবস্থা ও মিনার। বিদ্যুৎ চলে গেলে আছে জেনারেটর।

স্থানীয় বয়স্কদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুড়িরহাট এলাকার মুসলমানরা শিক্ষায় অনগ্রসর ছিল। কিছু সম্ভ্রান্ত পরিবার ছাড়া বাকিরা পড়াশোনা করেনি। এ সময় একাব্বর হোসেন হাওলাদার বুড়িরহাটের এই জায়গায় একটি গাছের নিচে বসে ইবাদত করতেন। কয়েক বছর পর তিনি এলাকার বিশিষ্ট কয়েকজনকে নিয়ে একটি ছনের ঘর তৈরি করে নামাজ ও কুরআন শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। তার ছেলে মরহুম মমতাজ উদ্দিন হাওলাদার একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ার চিন্তা করেন। কিন্তু তার ছিল না জমি বা অর্থ।

স্থানীয় অনেকে জানান, টিনের ঘরের একটি মসজিদ ছিল ১৯১০ সাল পর্যন্ত। এরপর সেটা পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৩৫ সালে তা পরিপূর্ণ রূপ পায়। তখন যে কয়েকজন ব্যক্তি অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম মরহুম মমতাজ উদ্দিন হাওলাদার, মরহুম মন্তাজ উদ্দিন মুন্সী ও আফতাব উদ্দিন মুন্সী।

শরীয়তপুর চন্দনকর মৌজায় বুড়িরহাট বাজারের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমানার শেষ প্রান্তে এই মসজিদ। এর দক্ষিণ পাশের খালের অস্তিত্ব এখন আর নেই। দান করা কিছু জমি ও খালে তৈরি হয়েছে মসজিদের পুকুর।

নকশা করেন প্রকৌশলী মরহুম আফতাব উদ্দিন মুন্সী। তিনি নির্মাণকাজে বিভিন্ন ধরনের পাথর ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কলকাতা থেকে কিনে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। সিমেন্ট সরবরাহ করা হয় ইংল্যান্ড থেকে। কারুকাজের জন্য কারিগর আনা হয় চাঁদপুর থেকে। তাদের কাজ দেখে উদ্যোক্তাদের উৎসাহ আরও বাড়ে। এরপরই বাড়তে থাকে সহযোগিতা।

আশির দশকে নির্মাণ হয় মসজিদের মিনার। এটি তৈরি করতে বিরতিহীনভাবে ১০ জন মিস্ত্রির সময় লেগেছে দেড় বছর। বিভিন্ন সময়ে ধর্মপ্রাণ মানুষ ও পথচারীরা মসজিদের সৌন্দর্যে অভিভূত হয়ে থমকে দাঁড়ান।

শহর থেকে দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনুন্নত একটি গ্রামে এমন একটি স্থাপনা দেখে অবাক হন তারা।
স্বাধীনতার বছর থেকে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার শিরঙ্গল গ্রামের মাওলানা মনসুর আহমেদ। ১৯৮২ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইমাম ও খতিবের দায়িত্বে ছিলেন চাঁদপুর জেলার মাওলানা ইসহাক নিজামী। তার মৃত্যুর পর আরও দুজন ইমামের পরিবর্তন হলেও বর্তমান খতিব ও ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা সাব্বির আহমেদ ওসমানী।

বর্তমানে মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষে দায়িত্ব পালন করছেন মোজাম্মেল হোসেন সেন্টু হাওলাদার, শরীয়তপুর সরকারি কলেজের প্রফেসর মিজানুর রহমান হাওলাদার, পূর্ব মাদারীপুর সরকারি কলেজের প্রফেসর খোরশেদুল আলম, বদর উদ্দিন হাওলাদার ও মহিবুর রহমান বাবু চৌধুরীসহ আরও অনেক স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি।

মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, আশির দশকে মসজিদের মিনার তৈরি হয়। তখন থেকেই এ মসজিদের অনেক দায়িত্ব পালন করে আসছে আমার পরিবার। মুসল্লি বৃদ্ধি পাওয়ায় মসজিদটি আরও বড় করার জন্য এর উত্তর ও পূর্ব পাশে উন্নয়নকাজ শুরু করি ২০১৫ সালে। তবে কোনো দেয়াল ভাঙা সম্ভব হয়নি। আগের নকশা ঠিক রেখেই উন্নয়নকাজ চলছে।

মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর খোরশেদুল আলম জানান, মসজিদটি কলকাতার টিপু সুলতাল মসজিদের আদলে নির্মিত। অনেকে এখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে নামাজ পড়তে আসেন। মানুষের অনুদানে এবং মসজিদের মার্কেটের আয়ে এর ব্যয় চলে।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য কামরুল আলম নান্নু বলেন, আমরা ঐতিহাসিক বুড়িরহাট জামে মসজিদে প্রতিবছর রমজানে ইফতারের আয়োজনে করে থাকি। করোনার কারণে গত বছর ইফতারের আয়োজন ছিল না।

স্থানীয় মুসল্লি সামচুল আলম শামীম বলেন, ঐতিহ্যবাহী বুড়িরহাট মসজিদে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে নামাজ পড়ছি। এখানে নামাজ পড়তে ভালো লাগা কাজ করে।

শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি রুদ্রকার ইউনিয়নের বাসিন্দা সাংবাদিক শেখ খলিলুর রহমান জানান, ইসলামি ঐতিহ্যের স্মৃতিচিহ্ন ধারণকারী বুড়িরহাট জামে মসজিদটি কালের সাক্ষী। আমি ছোট থেকেই এই মসজিদে নামাজ পড়ে আসছি।

মসজিদের খতিব ও ইমাম মাওলানা সাব্বির আহমেদ ওসমানী বলেন, দীর্ঘ দিন এ মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করছি। এই এলাকায় এমন মসজিদ আর নেই। দূর থেকে মানুষ মসজিদটি দেখতে আসেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।