টাঙ্গাইলশুক্রবার , ২২শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. গণমাধ্যম
  6. জবস
  7. জাতীয়
  8. টপ নিউজ
  9. টাঙ্গাইলে করোনা মহামারি
  10. তথ্যপ্রযুক্তি

ফরিদপুরে দুই দফা বন্যায় সাড়ে ১০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি

অনলাইন ডেস্ক
আপডেট : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১
Link Copied!

ফরিদপুরে দুই দফা বন্যায় ৯৭ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এতে ১০ কোটি ৬৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকা মূল্যের তিন হাজার ৯৪৫ মেট্রিক টন ফসল নষ্ট হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা সাত হাজার ৯০৩ জন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ভাঙ্গা উপজেলার কৃষকরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের তায়জুদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের কৃষক সিদ্দিক জমাদার (৪৬) ১৫ একর জমিতে কলার বাগান করেছিলেন। বাগানটি বন্যার পানিতে ডুবে যায়। পরে পানি নেমেও যায়। কিন্তু এরপর একটার পর একটা কলাগাছ মারা যেতে থাকে।

সিদ্দিক জমাদার জানান, বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত অন্তত পাঁচ একর জমির ওপরে রোপণ করা এক হাজার ৬০০ কলা গাছ মরে গেছে। এই কলা বেঁচেই তিনি পরিবারের বাৎসরিক খরচ চালাতেন।

শুধু সিদ্দিক জমাদারই নন, ফরিদপুরে চলতি বছর দুই দফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাত সহস্রাধিক কৃষক। এর মধ্যে কেউ ধান চাষ করেছিলেন, কেউ সবজি, কেউ কলা আবার কেউবা কাঁচা মরিচ।

গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে দুই দফা বন্যায় ফরিদপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়। গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি প্রথম দফায় বিপৎসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার এবং দ্বিতীয় দফায় ৭৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এখন পানি নেমে গেছে। কিন্তু সর্বত্র রয়ে গেছে ফসল বিনষ্টের চিহ্ন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, বন্যায় জেলার ছয়টি উপজেলায় ৭ হাজার ৯০৩ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভাঙ্গা উপজেলায়। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা তিন হাজার ৪৩০ জন। সবচেয়ে কম মধুখালীতে ২১০ জন।

ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের বাসিন্দা নায়েব আলী সরদার (৩৩) জানান, কাইমুদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ (৬২) ৩৩ শতাংশ জমিতে আউশ ধানের চাষ করেছিলেন। বন্যায় তার ৭৫ ভাগ জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।

ওই ইউনিয়নের জয়নাল মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা কৃষক রজ্জব মাতুব্বর (৪৯) বলেন, তার ১০ একর জমির মধ্যে ৩ একর জমির আউশ ধান বিনষ্ট হয়েছে।

নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুজ্জামান বলেন, বন্যার কারণে তার ইউনিয়নের ১২০ একর আউশ ধান, ৩০ একর সবজি এবং দুইশ একর কলাবাগান বিনষ্ট হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা না দিলে তাদের পক্ষে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কষ্টসাধ্য হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, দুই দফা বন্যায় ফরিদপুরে ৯০৪ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে রোপা আমন ৬২১ হেক্টর জমির, আউশ (উফসী) ২ হেক্টর, আউশ (স্থানীয়) ৯ হেক্টর, বোনা আমন ১৯৫ হেক্টর, কলা ৭ হেক্টর, কাঁচা মরিচ ১৫ হেক্টর এবং ৫৪ হেক্টর জমির সবজি রয়েছে।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপন প্রসাদ সাহা বলেন, বন্যার ফলে উপজেলায় ১০ হেক্টর জমির সবজি সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে গেছে। যা উপজেলার মোট সবজি আবাদের ১০ দশমিক ৫২ ভাগ।

মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভী রহমান বলেন, মধুখালী উপজেলা মরিচ চাষের দিক দিয়ে এগিয়ে আছে। এ উপজেলায় মোট ১৬ হাজার ৬৫৮ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে দুই হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচ চাষ হয়েছে। যা মোট আবাদের প্রায় ১৬ ভাগ (১৫ দশমিক ৮৫)। বন্যা ও বৃষ্টির কারণে উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত ২১০ জন কৃষকের মধ্যে ১২৫ জনই মরিচ চাষি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. হযরত আলী বলেন, বন্যার পর দুই হাজার ১০ জন কৃষককে মাশকালাই চাষের জন্য পাঁচ কেজি বীজ ও ১৫ কেজি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বন্যা কবলিত ছয় উপজেলার কৃষকদের মধ্যে তা ভাগ করে দেওয়া হবে। বীজ ও সার দেবে বিএডিসি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিবহন ব্যয় বরাদ্দ দেওয়া হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত কলা ও কাঁচা মরিচ চাষিদের সম্পর্কে হযরত আলী বলেন, কৃষি প্রণোদনার মধ্যে কলা বা কাঁচা মরিচ চাষিদের প্রণোদনা দেওয়ার ঘটনা আগে ঘটেনি। এবারও সে সুযোগ নেই।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।