টাঙ্গাইলরবিবার , ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. গণমাধ্যম
  6. জবস
  7. জাতীয়
  8. টপ নিউজ
  9. টাঙ্গাইলে করোনা মহামারি
  10. তথ্যপ্রযুক্তি

করোনাভাইরাস বলেছে স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দিতে হবে

অনলাইন ডেস্ক
আপডেট : মে ২, ২০২১
Link Copied!

করোনাভাইরাস বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসীকে স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দিতে বলেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্যসুরক্ষা ছাড়া একটি পৃথিবী উন্নতি লাভ করতে পারে না। দেশের মানুষ যদি সুস্থ না হয়, দেশের মানুষ যদি সবল না হয় তাহলে অর্থনীতি তো দূরের কথা, কোনো কিছুতেই সফল হতে পারবে না। সেটি করোনাভাইরাস আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছে।

রোববার (২ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা বিরাট একটি বিভাগ, এটি অনেকেই বুঝতে পারে না। আমরাও বুঝতে পারিনি। পৃথিবীর কোনো দেশই স্বাস্থ্যসেবাকে গুরুত্ব দেয়নি। এতদিন তারা মানুষ হত্যায় বোম, মারণাস্ত্র তৈরি করায় সব বিনিয়োগ করেছে। মানুষকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সেরকম বিনিয়োগ তারা করেনি। এটার প্রমাণ পাওয়া গেল করোনার কারণে ভাইরাসের সময়ে। ভাইরাসটি পুরো পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

জাহিদ মালেক বলেন, আমরা আপনাদের সবাইকে নিয়েই করোনা মোকাবিলা করছি। শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করোনা মোকাবিলায় আমরা সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলাম। আমরা প্রথমে ভালোভাবে মোকাবিলা করেছি। যা যা প্রয়োজন ছিল, হাসপাতাল তৈরি করা থেকে শুরু করে বেড সংখ্যা বাড়ানো, সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন তৈরি করা, হাই ফ্লো নাজাল ক্যানোলা স্থাপন করাসহ সবকিছুই আমরা করেছিলাম। কিন্তু আমাদের বেপরোয়া চলাফেরায় আবার সংক্রমণ বেড়ে গিয়েছে।

ভারতের মতো পরিস্থিতিতে আমরা পড়তে চাই না

তিনি বলেন, আমরা আবার দ্বিতীয় ঢেউয়ে কেন পড়লাম, সেটা আমাদের জানা থাকতে হবে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মানিনি, বেপরোয়াভাবে বাইরে ঘুরে বেড়িয়েছি। বিয়ে-শাদী করেছি, পিকনিকে গিয়েছি, সব মিলিয়ে দ্বিতীয় ঢেউটা এলো। পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও এই দ্বিতীয় ঢেউ এসেছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের মতো পরিস্থিতিতে আমরা পড়তে চাই না। আমাদের এখনই সতর্ক হতে হবে। মাস্ক, সেনিটাইজারসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

জাহিদ মালেক বলেন, আমাদের ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা যেভাবে দিনরাত পরিশ্রম করছে, তাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা সবসময় আছে। আমরা একসঙ্গে কাজ করছি, আমরাও এই সংগ্রামের একজন সদস্য। আমরা আপনাদের সকলের পাশে আছি।

টিকা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমাদের জন্য টিকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যেহেতু ভারত থেকে আসছে না। তাই আমরা চীনের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা করছি। তারা আমাদেরকে শুরুতে ৫ লাখ টিকা দেবে। তাদের টিকা কিছুদিনের মধ্যেই দেশে চলে আসবে। আরও টিকার ব্যবস্থা রাশিয়া থেকে হচ্ছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। আশা করি আমাদের টিকা কর্মসূচি চলমান থাকবে।

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন দেখেছি, বলতে গেলে সময় লাগবে

জাহিদ মালেক বলেন, আমরা আপনাদের সবাইকে নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি। আজ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। অনেকেই অনেক রকমের আলোচনা-সমালোচনা করেন, কিন্তু আমাদের স্বাস্থ্যসেবায় কতটুকু অগ্রগতি লাভ করছি সে বিষয়গুলো দেখা উচিত। এর কী ঘাটতি আছে, সেগুলোর আলোচনা না করে কতদূর উন্নয়ন করেছি, সেগুলোও দেখা উচিত। সামনে আমরা আরও কী করতে পারব, কী ধরনের উন্নয়ন করতে পারব, সে বিষয়ে মনোযোগী হওয়া বেশি প্রয়োজন।

মন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বরণের পর জাতির জনকের কন্যা যখন দেশের হাল ধরলেন, তখন সব ক্ষেত্রে উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছি। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন দেখেছি, সেটা বলতে গেলে সময় লাগবে। আমরা বলতে পারি স্বাস্থ্য বিভাগের যত উন্নয়ন হয়েছে, তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে হয়েছে। আজ প্রাইমারি স্বাস্থ্যসেবা অনেক ভালো হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে। আমরা দেখেছি ভ্যাক্সিনেশন প্রোগ্রাম পৃথিবীতে সুনাম অর্জন করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী ভ্যাকসিন হিরো হয়েছেন।

কত জনবল লাগবে তালিকা দাও, আমি অনুমোদন করে দেব

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার সময়ে দেশে সরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। এখন দেশে ৩৮টি সরকারি এবং ৭০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। আমাদের অনেকগুলো ইনস্টিটিউট হয়েছে। বার্ন ইন্সটিটিউট, ক্যান্সার ইনস্টিটিউট, চক্ষু ইন্সটিটিউট হয়েছে, যেগুলো আগে ছিল না। সেগুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হয়েছে। দেশে মেডিকেল ইউনিভার্সিটি ছিল না, এখন আমাদের দেশে পাঁচটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা শিশু মৃত্যুর হার কমিয়েছি। এখন আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি বাংলাদেশের হেলথ সার্ভিস ডিজিটালাইজড করার। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। তিনি স্বাস্থ্যসেবাকে ঢেলে সাজানো ও ডিজিটালাইজড করার বিষয়ে কাজ করছেন। এ বিষয়ে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছি। আমাদের হেলথ সার্ভিসের আরও উন্নয়ন করতে হবে। আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জনবলের ঘাটতি রয়েছে। আমাদের আরও ডাক্তার-নার্স টেকনোলজিস্ট দরকার, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলিষ্ঠভাবে আমাকে বলেছেন- কী রকম জনবল লাগবে, তুমি তালিকা দাও, আমি অনুমোদন করে দেব।

আমাদের দেশে কিছু মানুষ সামান্য কিছু হলেই বিদেশ চলে যায়, কিন্তু করোনাকালীন সময় তো কেউ বাইরে যেতে পারেননি। তাদের দেশেই চিকিৎসা হচ্ছে, তারা ভালোই আছেন। অর্থাৎ দেশের চিকিৎসা অনেক এগিয়ে গেছে। আমাদের চিকিৎসকরা মানসম্মত চিকিৎসা দিতে পারেন। আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা বাংলাদেশে হচ্ছে। আমরা দেশে এইচআইভিসহ সংক্রমণ ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি। এবার আমাদেরকে অসংক্রামক ব্যাধিগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এগুলোর চিকিৎসায় আমাদের আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশিদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদফতরের সচিব মোহাম্মদ আলী নূর, অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শরফুদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।