টাঙ্গাইলমঙ্গলবার , ১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. গণমাধ্যম
  6. জবস
  7. জাতীয়
  8. টপ নিউজ
  9. টাঙ্গাইলে করোনা মহামারি
  10. তথ্যপ্রযুক্তি

ধান কাটছেন কৃষক, পাহারা দিচ্ছে পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক
আপডেট : এপ্রিল ৩০, ২০২১
Link Copied!

সারাদেশে চলছে বোরো ধান কাটা উৎসব। সেই উৎবের আমেজ খাদ্যে উদ্বৃত্ত কিশোরগঞ্জ জেলার প্রতিটি উপজেলার প্রতিটি গ্রামেও দেখা যাচ্ছে। কিন্তু জেলার দুটি গ্রাম ছিল ব্যতিক্রম। সেখানে এতদিন ছিল না উৎসবের আমেজ। কারণ, গ্রাম দুটি যে পুরুষশূন্য! অবশেষে পুলিশের পাহারায় ফিরে এলেন তাদের জমিতে।

গত ১৭ এপ্রিল গ্রাম দুটিতে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত হন দুজন এবং আহত হন দুই গ্রামের প্রায় অর্ধশত এলাকাবাসী। সেই কারণে মামলার ভয়ে পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে দুই গ্রাম।

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) পুলিশ প্রহরায় ধান কাটা উৎসবে মেতেছেন গ্রাম দুটির কৃষকেরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকরা পুলিশ প্রহারায় জমির ধান কেটে মাড়াই করে তাদের ঘরে তুলছেন। শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) সকাল থেকেও পুলিশ পাহারায় শুরু হয়েছে ধান কাটা। আর তা অব্যাহত থাকবে পাকা ধান জমিতে অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত।

ভৈরব থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব থানার পক্ষ থেকে পুলিশ এলাকায় মাইকিং করে জানিয়েছে, মামলার আসামি ছাড়া কোনো নিরীহ মানুষকে পুলিশ গ্রেফতার বা হয়রানি করবে না। তাই যাদের জমির ধান পেকেছে, তারা যেন ধান কেটে ফেলেন। পুলিশ এ-ও জানায়, প্রয়োজনে পুলিশ কৃষকদের নিরাপত্তা দিয়ে পাকা ধান কাটার ব্যবস্থা করে দেবে।
বৃহস্পতিবার পুলিশের উপস্থিতে প্রায় ১৫ হেক্টর জমির ধান কেটেছেন গ্রামের কৃষকেরা। ভৈরব থানা পুলিশ আরও জানায়, ধান কাটা না হওয়া পর্যন্ত পুলিশি নিরাপত্তায় প্রতিদিন ধান কাটা অব্যাহত থাকবে।

ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম ঢাকা পোস্টকে জানান, উপজেলা কৃষি অফিস জানতে পারে যে উপজেলার খলাপাড়া ও লুন্দিয়া গ্রামে বোরো ধান পেকেছে কিন্তু সংঘর্ষের ঘটনার পর গ্রাম দুটি পুরুষশূন্য। এনম খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ভৈরব থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ প্রহরায় এ ধান কাটার ব্যবস্থা করে।

তিনি বলেন, এই দুই এলাকায় এবার প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। বর্তমানে জমিতে অধিকাংশ ধান পেকে গেছে। বৃহস্পতিবার আমি নিজে উপস্থি থেকে প্রায় ১৫ হেক্টর জমির পাকা ধান কাটার ব্যবস্থা করেছি।

এ বিষয়ে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, এ দুই গ্রামের সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় পাঁচটি মামলা করা হয়েছে। তবে যারা মামলার আসামি নয়, তাদের কোনো ভয় নেই। জমিতে পাকা ধান থাকা পর্যন্ত পুলিশ উপস্থিত থেকে কৃষকের ধান কাটতে সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ এপ্রিল উপজেলার খলাপাড়া ও লুন্দিয়া গ্রামে ধানমাড়াইকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষের ঘটনায় দুজন নিহত হয় এবং আহত হয় প্রায় অর্ধশতাধিক এলাকাবাসী। সংঘর্ষের সময় ও পরে প্রায় শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

এই সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষে থেকে ভৈরব থানায় পাঁচটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয় প্রায় ৭০০ জনকে। মামলা হওয়ার পর থেকে গ্রেফতার ভয়ে দুই গ্রামের মানুষ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।